খাদের কিনারা থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে আফগানিস্তান

0
56

প্রথম তিন ম্যাচ হেরে তারা ছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যাওয়ার দুয়ারে। কিন্তু অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জায়গা পেয়ে যাওয়া আফগানিস্তান রচনা করল আরও একটি রূপকথার অধ্যায়। নিজেদের অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানো আর প্রতিপক্ষদের বেশ কিছু সমীকরণ মিলিয়ে আফগানরা জায়গা করে নিল ২০১৯ বিশ্বকাপে।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচে শুক্রবার সমীকরণ ছিল সহজ। যে দল জিতবে, তাদেরই মিলবে বিশ্বকাপের টিকিট। সেই লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে আফগানিস্তান।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আইরিশদের ২০৯ রান তাড়ায় আফগানরা জিতে ৫ বল বাকি থাকতে। মেতে ওঠে বাঁধনহারা উল্লাসে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অন্যতম ফেভারিট ছিল আফগানরা। কিন্তু প্রথম তিন ম্যাচে হেরে বসে তারা স্কটল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, এমনকি হংকংয়ের কাছেও। পরে নেপালকে হারালেও নিশ্চিত ছিল না সুপার সিক্সে ওঠা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে জিততে হতো নেপালকে। মিলে যায় সেই সমীকরণ।

সুপার সিক্সে প্রথম দুই ম্যাচে আফগানরা হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। তবু সব কিছু ছিল না নিজেদের হাতে। সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে আর আমিরাতের কাছে হারতে হতো জিম্বাবুয়েকে। বৃহস্পতিবার সেই সমীকরণও মিলে যায়।

শেষের সমীকরণে আয়ারল্যন্ড ও আফগানিস্তানরা ছিল সমান্তরালেই। তাতে আইরিশদের হতাশ করে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল আফগানরা। সামান্য যেটুকু আশা ছিল জিম্বাবুয়ের, শেষ হলো সেটুকুও। ১৯৭৯ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বকাপ হবে জিম্বাবুয়েকে ছাড়া।

আফগানদের জয়ের পথ তৈরি করে দেয় বোলাররা। উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ও পল স্টার্লিং যদিও উদ্বোধনী জুটিতে ৫৩ রান এনে দিয়েছিলেন আইরিশদের। কিন্তু এরপর আর অর্ধশত রানের কোনো জুটি পায়নি তারা।

এমনিতে আক্রমণাত্মক স্টার্লিং এদিন ৫৫ করেন ৮৭ বলে। মিডল অর্ডারে নিয়াল ও’ব্রায়েন আউট হয়ে যান ভালো খেলতে খেলতেই (৪১ বলে ৩৬)। আইরিশ মিডল অর্ডারে ছোবল দেন লেগ স্পিনার রশিদ খান। শেষ দিকে কেভিন ও’ব্রায়েনের ৩৭ বলে ৪১ রানের ইনিংসে পার হতে পারে তারা দুইশ রান।

৪০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন রশিদ। ৪৩ ওয়ানডেতে তার উইকেট ৯৯টি। দ্রুততম একশ উইকেট শিকারি হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার আফগান লেগ স্পিনারের। ৫২ ম্যাচে একশ ছুঁয়ে রেকর্ডটি এখন মিচেল স্টার্কের।

রান তাড়ায় আফগানদের অনেকটা এগিয়ে দেয় উদ্বোধনী জুটি। মোহাম্মদ শাহজাদ ও গুলবদন নাইব গড়েন ৮৬ রানের জুটি। নাইব ৯১ বলে করেন ৪৫। তবে শাহজাদ ঠিকই ছিলেন স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক। ৫০ বলে করেন ৫৪।

মিডল অর্ডারে একটু হোঁচট খেয়েছিল আফগানরা। ম্যাচ জমে ওঠার আয়োজন গড়ে উঠছিল। কিন্তু আসগর স্টানিকজাইয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে দূর হয় আফগানদের শঙ্কা। ২৯ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন আফগান অধিনায়ক।

আগেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে প্রথম দুই বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের বিপক্ষে রোববার আফগানরা খেলবে বাছাইপর্বের ফাইনালে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আয়ারল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২০৯/৭ (পোর্টারফিল্ড ২০, স্টার্লিং ৫৫, বালবার্নি ১১, নায়াল ও’ব্রায়েন ৩৬, সিমি ১৫, কেভিন ও’ব্রায়েন ৪১, উইলসন ১১, ম্যাকব্রাইন ১১*, ম্যাককার্থি ০; দওলত ২/৫৪, মুজিব ০/৩১, নাইব ০/১৫, নবি ১/৪৮, আশরাফ ০/১৮, রশিদ ৩/৪০)।

আফগানিস্তান: ৪৯.১ ওভারে ২১৩/৫ (শাহজাদ ৫৪, নাইব ৪৫, রহমত ১২, শেনওয়ারি ২৭, নবি ১২, স্টানিকজাই ৩৯*, নাজিবুল্লাহ ১৭*; ম্যাককার্থি ১/৫৭, মারটাঘ ০/৪৬, র‌্যানকিন ১/৪১, ম্যাকব্রাইন ০/৩৮, সিমি ৩/৩০)।

ফল: আফগানিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ শাহজাদ