এবার ‘জয় হিন্দ’ লিখে স্ট্যাটাস ঢাবি শিক্ষকের

0
16

ভারতের স্লোগান ‘জয় হিন্দ’ লিখে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

বুধবার (১ জানুয়ারি) এমন স্ট্যাটাস দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক মহিউদ্দীন মুন্না।

এদিন দুপুরে শুধু ফেসবুক বন্ধুদের জন্য দেয়া তার স্ট্যাটাসে এই শিক্ষক লিখেন, ‘‘Happy new year! জয় হিন্দ!”

জানা গেছে, ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০১৬ সালে শিক্ষাছুটিতে গেছেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষা ছুটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রায়ই বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেন। তবে ছুটিতে থাকায় এই শিক্ষকের সাথে স্ট্যাটাসের ব্যাখ্যা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘কন্টেক্সটটা তো বলতে পারবো না, অনেক সময় আন্তঃরাষ্ট্র, আন্তঃসরকার সম্পর্কীয় কোনো বিষয় হয় তখন বিভিন্ন শব্দ, বিভিন্ন স্লোগান ব্যবহার করা যায়। দেখতে হবে যে কন্টেক্সটটা কী? অনেক সময় আছে আমরা এ রকম বলি—‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দীর্ঘজীবী হোক’, অথবা ‘বলি জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, বিভিন্ন দেশের কন্টেক্সট মিলিয়ে মিলিয়ে তখন বলতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘তবে আমি বলতে পারছি না যে, এ কন্টেক্সটা তিনি কিভাবে বলেছেন। তবে সাধারণ কথা হলো—আগে নিজের দেশাত্মবোধ, নিজের দেশপ্রেমকে সবার ঊর্ধে রেখে তারপর অন্য বক্তব্য। সেটাই প্রত্যাশিত।’

এর আগে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে দেয়া সভাপতির বক্তব্যে ‘জয় হিন্দ’ বলে স্লোগান দিয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। পরে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন সর্বস্তরের মানুষ। যদিও সে সময় এ স্লোগানকে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মারক বলে আখ্যায়িত করেন অধ্যাপক সোবহান।

এ নিয়ে সে সময় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, “টানা নয় মাস লড়ে দেশ স্বাধীন করেছি ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান শোনার জন্য নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি এই স্লোগান দিয়ে ৩০ লাখ শহীদদের আত্মত্যাগকে অসম্মান করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছেন। এটি চরম ঔদ্ধত্য ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এই মুহূর্তে তার বহিষ্কার দাবি করছি।”

এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, একজন স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে অন্য দেশের স্লোগান কীভাবে দেন। এ জন্য তাকে গোটা জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।