এবি পার্টিতে যোগ দিচ্ছে শিবিরের সাবেক নেতা সিকদার মুজিবর রহমান

0
175

স্টাফ রিপোর্টার 
নতুন রাজনৈতিক দল আমার বাংলাদেশ পার্টিতে ( এবি পার্টি) যোগ দিচ্ছে সাবেক শিবির নেতা ও ব্যবসায়ী সিকদার মুজিবর রহমান। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল শাখার সাবেক সভাপতি সিকদার মুজিবরের গ্রামের বাড়ি বরগুনায়। সে ঢাকায় জামায়াত -শিবির নিয়ন্ত্রিত একটি কোম্পানীর এমডি হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা জানায়, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জুর ফেইসবুকের একটি স্ট্যাটাস গতবছর শেয়ার করে ছাত্রশিবিরের সাবেক এই নেতা । তার এই শেয়ারের মাধ্যমে সিকদার মুজিবের বিষয়ে সন্দেহ করে জামায়াত ও শিবিরের নেতারা। গত বছর ‘জনআকাংখার বাংলাদেশ’ নামে একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরী করে এবি পার্টির নেতা কর্মীরা। সে সময় পার্টির নাম চূড়ান্ত না হওয়ায় এবং পূর্নাঙ্গ কাজ শুরু না হওয়ায় এতোদিন দোটানায় ছিল সিকদার মুজিব। কিন্তু ‘জনআকাংখার বাংলাদেশ’ এর নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতো সে। এমাসে তারা পূর্নাঙ্গরুপে পার্টি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করলে পার্টির ভাল একটি পোস্টের জন্য সিকদার মুজিব চেষ্টা করছে বলে জানা যায়।
বরগুনা জেলার সদর উপজেলার মনসাতলী গ্রামের বাসিন্দা সিকদার মুজিবুর রহমান বর্তমানে ঢাকায় বাস করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস থেকে পাস করা সাবেক এই শিবির নেতা ছাত্র অবস্থায় জহুরুল হক হলের শিবিরের সভাপতি ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে জামায়াত শিবিরের পরিচালনাধীন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরী করা শুরু করে। পাশাপাশি ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর সাথে রাজনৈতিক কাজ করতে থাকে। বর্তমানে সে জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর একটি ইউনিটের সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করছে।

গত বছর ২ মে ‘জন আকাংখার বাংলাদেশ ’এর প্রধান সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মঞ্জু ফেইসবুকে ঘুর্নিঝড় ফনী আঘাতের আগে কি ধরনের সতর্কতা অবলন্বন এবং আঘাত হানলে কি করণীয় তা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন দুপুর ২টা ৪ মিনিটে। তার ওই স্ট্যাটাস দেয়ার ১৫ মিনিট পর ২টা ১৯ মিনিটে জামায়াতের বর্তমান নেতা ও শিবিরের সাবেক নেতা সিকদার মুজিব ওই স্ট্যাটাস শেয়ার করে। তার এই শেয়ারের পর বরগুনা জজ কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট আসাদুজ্জামান মামুন কমেন্টের মাধ্যমে সমালোচনা করেন। এছাড়া সিকদার মুজিবের অনেক সহকর্মী তাকে ফোন করে ওই স্ট্যাটাস ডিলিট করতে অনুরোধ করে। কিন্তু সিকদার মুজিব তাদের কথা পাত্তা না দিয়ে নিজের অবস্থানকে সঠিক বলে সহকর্মীদের প্রশ্নের জবাব দেন। সিকদার মুজিব বলেন, মঞ্জু ভাইয়ের ওই স্ট্যাটাসে ঝড়ের সময় ও পরে কি করণীয় তা উল্লেখ ছিল। মানবিক কারনে ওটা আমি শেয়ার করেছি। এখানে কোন রাজনৈতিক বিষয় প্রাধান্য পায়নি। কিন্তু সিকদার মুজিবের উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেনি তার সহকর্মীরা। তাদের বক্তব্য, যে ব্যক্তি আমাদের দল থেকে বের হয়ে নতুন দল করার উদ্যোগ নিলো দু’দিন আগে সেই ব্যক্তির স্ট্যাটাসই মানবিক কারনে শেয়ার করতে হবে কেন ? সিকদার মুজিব একজন শিক্ষিত মানুষ। সে তো ফণী মোকাবেলায় কি করণীয় তা নিজের ভাষায় ফেইসবুকে লিখতে পারতো। তা না করে ‘ জন আকাংখার বাংলাদেশ’ এর মঞ্জুর স্ট্যাটাস শেয়ার করতে হবে কেন ?
ঢাকার পুরানা পল্টনের আল রাজী টাওয়ারের ৫ম তলায় সিকদার মুজিবের অফিস। তার অফিসের সহকর্মী ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গত বছর থেকে সিকদার মুজিব প্রায়ই মঞ্জু এবং আরেক নেতা ব্যারিস্টার জুবায়েরের সাথে যোগাযোগ রাখতো। তারা ভাবতো সাবেক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও দলীয় প্রধান হওয়ায় মঞ্জুর সাথে যোগাযোগ আছে সিকদার মুজিবের। কিন্তু গত বছর তার ওই স্ট্যাটাস শেয়ারের মাধ্যমে সিকদার মুজিবের অবস্থান পরিস্কার হয় তাদের। আর এমাসে এবি পার্টি আত্নপ্রকাশ করলে ব্যারিস্টার জুবায়েরের একটি স্ট্যাটাসে ফুলের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় সিকদার। সিকদার মুজিবের কর্মস্থল সিএডিএল এর সহকর্মীরা অনেকেই মনে করছে, এবি পার্টির আত্নপ্রকাশের দিন কোন পোস্ট না পেলেও ভাল একটি পোস্টের জন্য চেষ্টা করছে সে।
এ বিষয়ে সিকদার মুজিবের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে কোন মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেয়।