মুজিববর্ষ পালনে মানুষকে বাধ্য করা হচ্ছে : রিজভী

0
1

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মুজিব বর্ষ পালনে দেশের সাধারণ মানুষকে বাধ্য করা হচ্ছে। সেইসাথে এই বর্ষ পালনকে ঘিরে দেশব্যাপী চলছে তুঘলকি কাণ্ড ও চাঁদাবাজির মহোৎসব। এছাড়া বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন এ কথা এখন নিছক কৌতুক বলে মন্তব্য করেন রিজভী। বুধবার সকালে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, এখন উল্টোপথে চলছে দেশ। কবি শামসুর রাহমানের ভাষায় ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’। ক্ষমতাসীনরা নিজেদেরকে মনে করছেন আইন আদালতের উর্ধ্বে। নিজেদের ইচ্ছেমতো রায় বের করার জন্য দেশের আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কি ভয়াবহ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী পিরোজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা তিন দুর্নীতি মামলায় জামিন আবেদন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নান। রায় ঘোষণার ঘণ্টাখানেক পর বিচারক আবদুল মান্নানকে ওপরের বিশেষ নির্দেশে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। বিচারক কেন জামিন দিলো না সে অপরাধে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার ঘোষণাও দেয়া হয়। এরপর মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে আদালতে নতুন বিচারক বসিয়ে তার কাছ থেকে ইচ্ছেমতো রায় আদায় করে নেন।

তিনি বলেন, সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়াল কারাগারে না গিয়ে বীরদর্পে বাড়িতে চলে যান। সেই স্বাধীন বিবেকের বিচারকের পরিণতি এখন কি হবে তা নিয়ে দেশবাসী শংকিত। তার পরিণতি কি এস কে সিনহার মতো হবে, না মোতাহার হোসাইনের মতো হবে তা নিয়ে দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই গভীর শঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। এরপরও যখন সরকারের মন্ত্রীরা চিৎকার করে বলেন, সরকার আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপ করে না, তখন আওয়ামী লীগ লজ্জা না পেলেও বিবেকবান দেশবাসীর লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়।

রিজভী বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বকীয়তা ও পৃথকীকরণের পরিবর্তে সরকার বিচার বিভাগকে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা হিসেবে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন একথা এখন নিছক কৌতুক। আবার দুই বছরের বেশী সময় যাবৎ সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে কারারুদ্ধ গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের প্রসঙ্গ আসলেই এই সরকারের মন্ত্রী-নেতারা বলেন, আদালতের ওপর নাকি তাদের হাত নেই। কি হাস্যকর কথা! তাহলে পিরোজপুরের আদালতে দিনে দুপুরে এটা কোন হাতের কালো থাবা? বাস্তবে আইন এখন নিজস্ব গতিতে চলে না।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যেকোনো মূল্যে তাকে ঢাকায় আনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে দিল্লিতেও গণহত্যার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী কি এখন বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট উপলব্ধি করতে পারছেন? দিল্লিতে সুপরিকল্পিতভাবে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এটি কেবল বাংলাদেশের মানুষের বক্তব্য নয়, মঙ্গলবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও সমাবেশে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি বরং সুপরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছে। নিজ দেশেই যে রক্ত ঝরছে সেটিকে বন্ধ না করে মোদি যে বাংলাদেশে আসছেন সেটি কি এদেশের মানুষকে উপহাস করা নয়? এই প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে।

রিজভী বলেন, দেশের জনগণের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার জন্য এই সরকারের উচিত ছিল ভারতে গণহত্যার প্রতিবাদ করা। মুসলিম বিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক ও বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ করা। অথচ সেটি না করে সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, দিল্লির গণহত্যা আর নাগরিকত্ব আইন নাকি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

রিজভী বলেন, আমরা স্পষ্ট করেই বলতে চাই, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আমাদেরকে কারো কাছে মাথা বিকিয়ে দিতে নয়, আত্মমর্যাদাশীল হতে শিখিয়েছে। মাথা উঁচু করে চলতে শিখিয়েছে। রক্তস্নাত পথে পাওয়া স্বাধীনতাকে নিশ্চয়ই কারো কাছে বিকিয়ে দেয়ার জন্য নয়।

তিনি আরো জানান, মুজিব জন্ম শতবার্ষিকী পালন নিয়ে চলছে তুঘলকী কাণ্ড। মুজিব জন্ম শতবার্ষিকী নিয়ে সারাদেশে চলছে চাঁদাবাজীর মহোৎসব। ব্যবসায়ীদের দিন কাটছে চাঁদাবাজদের আতংকে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যতই বলুন না কেনো ‘মুজিববর্ষের নামে চাঁদাবাজির দোকান দেয়া যাবে না’-কিন্তু এটি তাব মুখের কথা, বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন নেই। এখানেই থেমে নেই, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি বাড়ির দেয়াল রং ও সংস্কার করতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সাধারণ মানুষকে বাধ্য করা হচ্ছে এই বর্ষ পালনে।

রিজভী বলেন, এভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ টাকা খরচের উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সবাই হতবাক। যেখানে দেশের তরুণ সমাজ বেকারত্বে ধুকছে, মানুষ অর্ধাহার-অনাহারে দিনযাপন করছে সেখানে এভাবে অর্থ খরচ নিয়ে জনগণের মনে প্রশ্ন জাগছে।