সময়ের প্রয়োজনে অনলাইন শিক্ষা আরো যুগোপযোগী করতে হবেঃ ডঃ মোঃ কামাল উদ্দিন

0
80

বর্তমান সময়ে অনলাইন শিক্ষা নিয়ে নানাভাবে আলোচনা সমালোচনা চলছে। এমন এক পরিস্থিতিতে এই পাঠের সাথে যিনি সরাসরি সম্পৃক্ত তার অভিজ্ঞতায় এর বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে নজরুল গবেষকসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ডক্টর মুহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন লেখক শাহিদা রুমা।

এস রুমা : অনলাইন শিক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ড. কামাল : করোনা ও বিশ্বায়নের পরিবর্তন যেমন অর্থনীতি, সমাজ ও অন্যান্য জায়গায় সূচিত হয়েছে তেমনি শিক্ষা ক্ষেত্রেও বিপুল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও জীবন মানের। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেড় বছর বন্ধ। এই সময়ে অনলাইন শিক্ষার বিকল্প আসলে ছিল না। যার ফলে সময়ের সাথে একটা দারুন মিল রেখেই অনলাইন শিক্ষা নিছক বিলাসিতা না হয়ে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে বাস্তবতার নিরিখেই।

এস রুমা : অনলাইন শিক্ষা শিশুদের জন্য কতটুকু উপযোগী?
ড. কামাল : উপযোগিতার ক্ষেত্র সত্যিকার অর্থে এখনও তৈরী হয়নি। শিশুদের অনলাইন ব্যবহার, সময় তথা অভিভাবকদের অভ্যস্থ হওয়ার সকল বিষয় আদতে এক হয়নি। তাই আমাদের পরিবেশ পরিস্থিতি প্রাসঙ্গিক বাস্তবতায় অনলাইন শিক্ষা আমাদের শিশুদের মনন ও মেধা বিকাশে আসলে উপযোগী হয়ে উঠেনি।

এস রুমা : অনলাইন শিক্ষা গ্রামীন শিশুদের জন্য কিভাবে উপযোগী করা যায়?
ড. কামাল : গ্রামীন শিশুদের জন্য উপযোগী করা আদতে সময় সাপেক্ষ বিষয়। আমরা যতই বলছি ডিজিটাল হয়ে গেছি বাস্তবে বিশ্বের অনেক পেছনের উগান্ডার মত রাস্ট্র থেকেও নেট দুনিয়ায় আমরা পেছনে পড়ে আছি। এটি গ্রামীন জনপদে সহজ করার মূল বিষয় হল নেট। শিক্ষকদের অভ্যস্থ করা, পরিবেশ তৈরী করা সহ প্রাসঙ্গিক বিষয় গুলোর উপর জোর দিতে হবে। তবেই এর ব্যবহার ও প্রয়োগ সহজ হবে।

এস রুমা : অনলাইন শিক্ষা সহজ করা যায় কিভাবে?
ড. কামাল : আর্লিংটন পাবলিক স্কুল গুলোতে প্রতি ছাত্রকে একটি করে আইপ্যাড সরবরাহ করে। সেখানে বিভিন্ন সংস্থার অ্যাক্সেসে শিক্ষার্থীরা সহজে তাদের কার্যক্রম গুলো পেয়ে যায়। কিন্তু আমাদের সে ব্যবস্থা আদৌ সম্ভব কিনা? সম্ভব হলেও তা ব্যবহার করার সহজলভ্যতা কতটুকুন? আমার মনে হয় সেই পরিস্থিতি আমাদের এখনও হয়নি। এটি সহজ করার ক্ষেত্রে আমি আবারও বলছি শিক্ষক, অভিভাবক, পরিবেশ ও নেট-ডিভাইস সহজ করতে হবে। অন্যথায় সহজ হবে না।

এস রুমা : অনলাইন শিক্ষার কি কি সুবিধা রয়েছে ?
ড. কামাল : নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল এটি প্রথম সুবিধা। শিক্ষকরা নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লাস নিচ্ছেন এটিও ইতিবাচক দিক। গৃহবন্দী শিক্ষার্থীরা কিছু সময় অনলাইনের কারনেই ব্যস্ত রয়েছে এটিও অর্জন। সঠিক সময়ে ডিভাইসে বসছে এটিও বড় বিষয়। আমি আপাতত এর বাইরে সুবিধা দেখছি না।

এস রুমা : অনলাইন শিক্ষার চ্যালেঞ্জ গুলো কি?
ড. কামাল : সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল শিশুদের ডিভাইস নির্ভরতার ফলে সামাজিক, পারিবারিক, স্বাস্থ্যগত অসুবিধা। বাকী সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ আমার আগের প্রশ্ন গুলোর উত্তরে অনেকটাই বলেছি।

এস রুমা : অনলাইন কোর্স কি মূল কোর্স হতে ভিন্ন হওয়া উচিত?
ড. কামাল : অবশ্যই। ভিন্ন বলতে গতানুগতিক সিলেবাস অনলাইনে অসম্ভব। পাঠ্যসূচির আমূল পরিবর্তন করতে হবে। সংক্ষিপ্ত হতে হবে। বুঝানো ও পাঠদানের কৌশলেও পরিবর্তন করতে হবে। মোটকথা প্রচলিত সিলেবাস এখানে অসার।

এস রুমা : অনলাইন শিক্ষাকে সকলের কাছে কিভাবে সহজ করা যায়?
ড. কামাল : বিনামূল্যে নেট সুবিধা দিতে হবে। সব জেলায় ফোর জি নেট থাকতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সিলেবাসকে সাজাতে হবে। ডিভাইস বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করতে হবে।

এস রুমা : অনলাইন শিক্ষা মূল শিক্ষাব্যবস্থাকে কিভাবে প্রভাবিত করবে?
ড. কামাল : আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক শিক্ষা থেকে এখনও বহু দূর। গবেষণা নাম মাত্র। দায়িত্ব নিয়ে বলি শিক্ষকরা পড়েন কম। একটি শিক্ষানীতি ৫০ বছরে হয়নি। এমন অগণিত দুর্বলতায় ভরা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কোন কার্যকর ব্যবস্থাও চোখে পড়ে না। তাই নিঃসন্দেহে বলতে পারি মূল শিক্ষা কোনভাবেই অনলাইন শিক্ষার সাথে যুদ্ধে জড়াবে না। কারণ আমার মতে দুটো শিক্ষারই এখনও কার্যত কোন সমাধান হয়নি। দুটোই অন্ধকারে, দুটোই বাস্তবতা হতে দূরে।

এস রুমা : অনলাইন শিক্ষা কি ক্লাস রুম শিক্ষার বিকল্প নাকি সময়ের প্রয়োজন ?
ড. কামাল : এখন সময়ের প্রয়োজন ও ক্লাস রুমের বিকল্প দুটোই। তবে সুন্দর সময়েও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়।

এস রুমা : আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. কামাল : আপনাকেও ধন্যবাদ এতগুলো প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আমার মতামত নেয়ার জন্য।